Thursday, April 18, 2024

সুবলপুরে ত্রি প্রহরে বাড়ীতে ঢুকে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের হানা

সুবলপুরে ত্রি প্রহরে বাড়ীতে ঢুকে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের হানা

এমএস সজীব: সুবলপুর গ্রামের  রবিউল ইসলাম নামে এক ফেরিওয়ালার বাড়িতে ঢুকে মোবাইল ও মালামাল লুট করেছে দূর্বত্তরা। বৃহস্পতিবার ভোর ৩:৩০ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে। এসময় রবিউল ইসলামের ঘুম ভেঙে গেলে চিৎকার করলে তাকে কুপিয়ে মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে আহত রবিউল ইসলামকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। তার শারিরীক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী রেফার করেন।


আহত রবিউল ইসলাম (৪০) দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের সুবলপুর গ্রামের মাঝেরপাড়ার জুড়ো মল্লিকের ছেলে। তিনি গ্রাম-গঞ্জে ফেরি করে চানাচুর, বাদাম ও নারীদের কসমেটিকস সামগ্রী বিক্রি করেন জীবিকা নির্বাহ করেন। এ ঘটনার পর দুপুরে রবিউলের বাড়ির অদূরে একটি গর্তের মধ্যে লুট করা মোবাইল মালামাল উদ্ধার করে পুলিশ।

এদিকে, খবর পেয়ে গতকাল সকালে কার্পাসডাঙ্গা ক্যাম্প পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক আতিকুর রহমান জুয়েল সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ২৪ ঘন্টা পার হলেও ঘটনার রহস্য উন্মোচন করতে পারিনি এবং জড়িতদের কাউকে চিহ্নিত করতে পারেনি। আহত পরিবারের সদস্যরা রাজশাহী থাকায় এখনো কোন মামলা বা অভিযোগ করেনি থানায়। তবে পুলিশ নিজ উদ্যোগে বিষয়টি তদন্তে মাঠে নেমেছে।

আহত রবিউল ইসলামের স্ত্রী কল্পনা খাতুন বলেন, রাতে আমি ও আমার মেয়ে ঘরের মধ্যে এবং স্বামী ঘরের বারান্দায় ঘুমিয়ে ছিলো। রাত সাড়ে ৩টার দিকে চিৎকারে ঘুম ভেঙে বাইরে বের হয়ে দেখি আমার স্বামীর ঘাড় থেকে রক্ত পড়ছে। এসময় ৫-৬ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি ঘর থেকে মোবাইল ও একটি কাপড়ের ব্যাগ নিয়ে যায়। ওই ব্যাগে কোন টাকা না থাকলেও কাপড়সহ মালামাল ছিলো। পরে প্রতিবেশীদের সহযোগীতায় আমার স্বামীকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করি। তিনি আরও বলেন, কিছুদিন পূর্বে এনজিও থেকে টাকা উত্তোলন করি। ওই লোনের কিছু টাকা ঘরে ছিলো। তবে এই টাকা তারা নিতে পারেনি।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আনিক চৌধুরী দৈনিক মাথাভাঙ্গাকে বলেন, রবিউলের ঘাড়ে ধারালো অস্ত্রের কোপ লেগেছে। রক্তক্ষরণের কারণে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। এদিকে গতকাল সকাল ৯ টার দিকে পরিবারের সদস্যরা আহত রবিউল ইসলামকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে রাজশাহীর উদ্দেশ্য চুয়াডাঙ্গা ত্যাগ করেন।

রবিউলের স্ত্রী কল্পনা খাতুন বলেন, দুপুরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৌছালেও রাত ৮ টা পর্যন্ত রক্তের অভাবে চিকিৎসা শুরু হয়নি। ৯টার পর রক্ত সংগ্রহ হলে চিকিৎসক আমার স্বামীর অস্ত্রপাচার শুরু করেন। তিনি শঙ্কামুক্ত আছেন বলে জানিয়েছে চিকিৎসক।

দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল্লাহ আল মামুন দৈনিক মাথাভাঙ্গাকে বলেন,  প্রাথমিক ধারণা এটা চুরির ঘটনা হতে পারে। দূর্বত্তরা মালামাল নেয়ার সময় রবিউলের ঘুম ভেঙে গেলে তার ঘাড়ে কোপ দিয়ে পালিয়ে যায়। সকালে একটি হেঁসো, লুট হওয়া মোবাইলসহ মালামাল উদ্ধার করা হয়। ঘটনার রহস্য উন্মোচনে গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। খুব শিগগিরই জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি আরও বলেন, আহতের চিকিৎসার জন্য পরিবারের সদস্যরা রাজশাহী থাকায় এখন পর্যন্ত থানায় অভিযোগ হয়নি। আজ মামলা বা অভিযোগ হতে পারে।

Sunday, April 14, 2024

ই-কমার্সের বিবর্তন: অনলাইন কেনাকাটার প্রবণতা

ই-কমার্সের বিবর্তন: অনলাইন কেনাকাটার প্রবণতা

ই-কমার্সের সূচনা

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠার পর থেকে অনেক দূর এগিয়েছে। এটি অনলাইন কেনাকাটার একটি সাধারণ ধারণা হিসাবে শুরু হয়েছিল, যা গ্রাহকদের তাদের বাড়ির আরাম থেকে কেনাকাটা করতে দেয়।

মোবাইলে কেনাকাটার প্রভাব

স্মার্টফোনের আবির্ভাবের সাথে, ই-কমার্স একটি নতুন মোড় নিয়েছে। মোবাইল কেনাকাটা ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, যার ফলে গ্রাহকরা যেকোনো সময় এবং যে কোনো জায়গায় কেনাকাটা করতে পারবেন।

সামাজিক বাণিজ্যের উত্থান

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিও ই-কমার্সের বিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সামাজিক বাণিজ্য একটি প্রধান প্রবণতা হয়ে উঠেছে, ভোক্তারা সরাসরি সোশ্যাল মিডিয়া চ্যানেলের মাধ্যমে পণ্য ক্রয় করতে সক্ষম হচ্ছে।

এআই এবং ব্যক্তিগতকরণের প্রভাব 

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ই-কমার্স পরিচালনার পদ্ধতিতে বিপ্লব করেছে। AI অ্যালগরিদমগুলি ব্যক্তিগত ভোক্তাদের পছন্দ অনুসারে পণ্যের সুপারিশগুলি তৈরি করে ব্যক্তিগতকরণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

টেকসই কেনাকাটার দিকে শিফট

সাম্প্রতিক বছরগুলিতে, টেকসই কেনাকাটার দিকে একটি ক্রমবর্ধমান প্রবণতা রয়েছে। ভোক্তারা তাদের ক্রয়ের পরিবেশগত প্রভাব সম্পর্কে আরও সচেতন, যার ফলে পরিবেশ-বান্ধব এবং নৈতিকভাবে উৎপাদিত পণ্যের বৃদ্ধি ঘটে।

ই-কমার্সের ভবিষ্যৎ

সামনের দিকে তাকালে, ই-কমার্সের ভবিষ্যত অফুরন্ত সম্ভাবনায় ভরা বলে মনে হচ্ছে। প্রযুক্তির অগ্রগতি এবং ভোক্তাদের পছন্দ পরিবর্তনের সাথে, অনলাইন কেনাকাটা ক্রমাগত বিবর্তিত হবে এবং খুচরা ল্যান্ডস্কেপকে আকৃতি দেবে। উপসংহারে, ই-কমার্সের বিবর্তন একটি আকর্ষণীয় যাত্রা হয়েছে, বিভিন্ন প্রবণতা আমাদের অনলাইনে কেনাকাটা করার পদ্ধতিকে রূপ দেয়। মোবাইল কেনাকাটা থেকে শুরু করে সামাজিক বাণিজ্য এবং এআই-চালিত ব্যক্তিগতকরণ, ই-কমার্সের বিশ্ব পরিবর্তিত সময়ের সাথে নতুনত্ব এবং মানিয়ে চলেছে।

Saturday, April 13, 2024

 গাঁজা কারবারি গ্রেপ্তার অভিযানে দামুড়হুদা থানা পুলিশ

গাঁজা কারবারি গ্রেপ্তার অভিযানে দামুড়হুদা থানা পুলিশ

 চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা থানাধীন কার্পাসডাঙ্গা পুলিশ ক্যাম্পের অভিযানে ৫০০ গ্রাম গাঁজা, একটি ভ্যানসহ এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।


শনিবার (৯ মার্চ) রাতে দামুড়হুদা থানাধীন কার্পাসডাঙ্গা-সুবলপুর সড়ক থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আসামি মো. ফিরোজ মিয়ার (৩০) বাড়ি জেলার দর্শনা থানা এলাকায়।

দামুড়হুদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলমগীর কবির জানান, আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে।

Friday, April 12, 2024

Thursday, April 11, 2024

এ যেন মুক্তিযুদ্ধের এক অজানা অধ্যয়।

এ যেন মুক্তিযুদ্ধের এক অজানা অধ্যয়।

চুয়াডাঙ্গা জেলা

চুয়াডাঙ্গা জেলা বাংলাদেশের একটি ঐতিহাসিক ও সমৃদ্ধ জনপদ। এটি বৃহত্তর খুলনা বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। বাংলাদেশের অতি ছোট জেলাগুলোর মধ্য চুয়াডাঙ্গা একটি। এর আয়তন মাত্র ১১৭৪.১০ কিলোমিটার। জেলায় তেমন দর্শনীয় স্থান না থাকায় পরিচিতির দিক দিয়ে রয়েছে অনেক পিছিয়ে। কিন্তু ইতিহাস স্বাক্ষী দেয়, স্বাধীনতা যুদ্ধে বিরল ভূমিকা পালন করে চুয়াডাঙ্গা। গৌরবময় ইতিহাস গর্বিত করে জেলাবাসীদের। ১৯৭১ সালের ২৬ শে মার্চ মুক্তিযুদ্ধের সর্বপ্রথম কমান্ড; দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলীয় কমান্ড গঠিত হয়েছিল চুয়াডাঙ্গায়।




মুক্তিযুদ্ধের আট নং সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিলো চুয়াডাঙ্গা সদরের ৪নং ইপিআর এর হেডকোয়ার্টার। ৪নং ইপিআর প্রধান মেজর আবু ওসমান চৌধুরী এবং ডাঃ আসহাব-উল-হক জোয়াদ্দার একই দিন একই সময়ে সকাল ৯ টা ৩০ এ চুয়াডাঙ্গা শহরের বড়বাজার চৌরাস্তার মোড়ে সর্বপ্রথম দখলদার পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ এবং সর্বাত্মক যুদ্ধ ঘোষনা করেছিলেন।


যুদ্ধকালীন সময়ে ১০ই এপ্রিল প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার চুয়াডাঙ্গাকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অস্থায়ী রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করেন। ১৬ই এপ্রিল তা কার্যকরের কথা থাকলেও নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে পরে তা মেহেরপুরের মুজিবনগরে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং মুজিবনগরকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অস্থায়ী রাজধানী করা হয়।



এখানেই চুয়াডাঙ্গার ইতিহাসের ইতি নয়, স্বাধীন বাংলাদেশের ডাক বিভাগ এবং টেলিযোগাযোগের ব্যবস্থা সর্বপ্রথম এই চুয়াডাঙ্গাতেই প্রতিষ্ঠা করা হয়। 

চুয়াডাঙ্গা জেলার অন্যান্য স্থানসমূহ

১৮৬২ সালে ব্রিটিশ সরকার বাংলাদেশে রেললাইন ও রেল চলাচল শুরু করেন। সর্বপ্রথম চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থেকে কুষ্টিয়ার জগতী পর্যন্ত রেললাইন স্থাপন করা হয়।


তাছাড়া চুয়াডাঙ্গার দর্শনা (বর্তমান দর্শনা হল্ট) রেলওয়ে ষ্টেশন বাংলাদেশের প্রথম রেলওয়ে ষ্টেশন।  জেলাটিতে রয়েছে নানা যুগের ১০৪টি প্রাচীন নিদর্শন।


প্রাচীন স্থাপত্য নিদর্শনের মধ্যে-দর্শনা ডিস্টিলারী হাউজ, কেরু অ্যান্ড কোং বাংলাদেশ লিঃ, হিরোম-লের পুকুর ও বাগানবাড়ি, পুরাতন হাউলি দোয়া, ম-লবাড়ি বাস্তুপুর, কার্পাসডাঙ্গা নীলকুঠি, কাজী নজরুল ইসলাম স্মৃতিবিজড়িত আটচালা ঘর ও নদীর ঘাট , নাটুদা গণ আটকবর, গচিয়াপাড়া হাজার দুয়ারী স্কুল, নাটুদা জোড়া শিবমন্দির, দেশের সর্বপ্রথম রেলওয়ে ষ্টেশন দর্শনা  হল্ট স্টেশন, কার্পাসডাঙ্গা মিশন, চুয়াডাঙ্গা ডিসি ইকোপার্ক, শিবনগর জামে মসজিদ, গোলাম মোস্তফা (ঘটু মোল্লা) বাড়ি, রাম বাবুর বাড়ি, রেজা চিশতি (র.) মাজার, মধু জমিদারের পুকুর (জলাধার), জুড়ানপুর মমালিতা ভবন, ভালাইপুর নীলকুঠি, লোকনাথপুর নীলকুঠি, হোসেন মঞ্জিল, কার্পাসডাঙ্গা প্রাচীন গির্জা, খ্রিস্টান পাদ্রীর কবর, কার্পাসডাঙ্গা নীলকুঠির প্রবেশ তোরণ,  কুঁকিয়া চাঁদপুর নীলকুঠি (বিলুপ্তপ্রায়),  হযরত কিতাব আলী শাহ মাজার, কমলার দোয়া, বাংলাদেশের প্রথম ও চুয়াডাঙ্গার প্রধান ডাকঘর, জীবননগর সেন মন্দির, ভি.জে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, কুড়ুলগাছি পীরগঞ্জ জামে মসজিদ, মোমিনপুর বোয়ালমারী পুরাতন জামে মসজিদ, বোয়ালমারী জমিদার বাড়ি, ভিমরুল্লাহ পুরাতন জামে মসজিদ, কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টপাধ্যায়ের মামার বাড়ি জীবননগর কাশীপুর জমিদার বাড়ি, সাগরমনী দেবীর বাড়ি, হীরালাল দত্তের বাড়ি, তিতুদহ মিয়াপাড়া জামে মসজিদ, সিরাজ মঞ্জিল, জেলা আইনজীবী সমিতি ভবন, কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংক, শহীদ-উর-রহমানের বাড়ি, সাব রেজিস্ট্রারের কার্যালয়, জীবননগর সপ্তম অ্যাডওয়ার্ডের পাতকুয়া, বটকৃষ্ণ ইন্দ্র কুমারের বাড়ি,  প্রাচীন লোহারপুল, খন্দকার বাশার মোল্লার বাড়ির ঢিবি, আলমডাঙ্গা দোবে জমিদারদের কাচারী ও তহশিলখানা সনাতনপুর, জমিদার বিজয় কুমার দোবের বাড়ি, দোবে জমিদার বাড়ির মন্দির, ঘোলদাড়ি নীলকুঠি, কামিনী ফকিরানীর বাস্তুভিটা, জামজামি শাহী জামে মসজিদ (বিলুপ্ত), কাজী গোলাম দরবেশের কাচারী বাড়ি (মসজিদ সংলগ্ন), জামজামি ঈদগা ধ্বংসাবশেষ, ঘোষবিলা (ধুলিয়া) নীলকুঠি, মতিলাল আগারওয়াল বাড়ি, আলমডাঙ্গা কুমারী সাহা জমিদার বাড়ি, সাহা জমিদার বাড়ির প্রাচীন পাতকুয়া, কুমারী কালী মন্দির, আলমডাঙ্গার লালব্রিজ বা লালসেতু , আলমডাঙ্গা দোতালা রেলস্টেশন, হযরত বিনোদিয়া (র.) মাজার, শ্রী শ্রী সত্য নারায়ণ মন্দির, চুয়াডাঙ্গা পৌর বড় মসজিদ, ধোপাখালী পুরাতন মসজিদ, জীবননগর পেয়ারাতলা রাখাল শাহ মাজার, চুয়াডাঙ্গা রেলস্টেশন, সুভাষিনী দাসের বাড়ি, মতিরাম আগরওয়ালার বাড়ি, দামুড়হুদা বেগুপাড়া মসজিদ, কার্পাসডাঙ্গার কুতুবপুর মসজিদ, হযরত মেহমান শাহ মাজার ও তৎসংলগ্ন ঢিবি, পীর বুড়া দেওয়ানের দরগাহ, জীবননগর আন্দুলবাড়িয়া অজ্ঞাত ইমারত, হযরত মানিক পীরের মাজার, খাজা পারেশ সাহেবের মাজার, চুয়াডাঙ্গা সদর বড়সলুয়া মহিশতলা মসজিদ ঢিবি, কালুপোল রাজার ভিটা, গড়াইটুপি হযরত মল্লিক শাহ মাজার, মুজিবনগর বাগোয়ান শেখ ফরিদের মাজার, বাগোয়ান শাহী জামে মসজিদ, আলমডাঙ্গা ঘোষবিলা হযরত শাহনূর (বাঘী দেওয়ান) আলমডাঙ্গার বধ্যভূমি, বাগদাদী (র.) এর মাজার, ঘোষবিলা প্রাচীন মসজিদ ইত্যাদি।


যুদ্ধকালীন গণহত্যা এবং ধ্বংসযজ্ঞের স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের পেছনে, দামুড়হুদার নাটুদহ উচ্চ বিদ্যালয়ের পেছনে তিনটি গণকবর, হৈবতপুরে, জীবননগরে সীমান্তবর্তী ধোপাখালী গ্রামে এবং আলমডাঙ্গা রেলস্টেশনের কাছে গঙ্গা-কপোতাক্ষ ক্যানালের তীরবর্তী স্থানে যুদ্ধের স্মৃতিধারণ করে দাঁড়িয়ে আছে স্মৃতিস্তম্ভ। জেলায় রয়েছে- নবগঙ্গা নদী, চিত্রা নদী, ভৈরব নদ, কুমার নদ, মাথাভাঙ্গা নদী। যদিও কালের আবর্তে সবগুলো নদী আজ মৃত প্রায়। মাথাভাঙ্গা নদীই এখন জেলার পরিচয় নদী, সেটাও ধ্বংসের দিকে। দর্শনীয় স্থানের মধ্যে আরো আছে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ও সর্বপ্রথম কৃষি খামার  জীবননগরের দত্তনগর কৃষিখামার।


এছাড়াও দামুড়হুদার নাটুদহের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ আটজন বীর মুক্তিযোদ্ধার কবর, যা আট কবর নামে পরিচিত। এশিয়া মহাদেশের সর্ববৃহৎ দর্শনা কেরুজ চিনিকল, হাজারদুয়ারি স্কুল, কার্পাসডাঙ্গার নীলকুঠি, আলমডাঙ্গার ঘোলদাড়ি ওমর শাহর মসজিদ, তিয়রবিলা বাদশাহী মসজিদ, চুয়াডাঙ্গা সদরের গড়াইটুপিতে সাধক হযরত খাজা মালিক গাউস (র.) মাজার, চারুলিয়ার মেহমান শাহরের মাজার, জমিদার নফর পালের প্রাকৃতিক শোভাবর্ধনকারী তালসারি সড়কসহ বিভিন্ন স্থান। 


অসংখ্য প্রাচীন ও নতুন নিদর্শন এবং ইতিহাস ঐতিহ্যের স্বাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ছোট্ট জেলা চুয়াডাঙ্গা। জেলাবাসীদের চাওয়া প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের এই জেলা বাংলাদেশের মানচিত্রের অন্যতম একটি জেলা হয়ে থাকবে। জেলা পাবে তার পূর্ণ মর্যাদা। ঘোষণা করা হবে একটি ঐতিহাসিক জেলা রুপে।

Wednesday, April 10, 2024

ঈদগাহ ময়দানটি শতাব্দীর মিলনমেলা

ঈদগাহ ময়দানটি শতাব্দীর মিলনমেলা

  দামুড়হুদা উপজেলার ৩ নং ওয়ার্ডের সুবলপুর গ্রামে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সুবলপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের কমিটির সদস্যবৃন্দ গ্রামের অন্যান্য মুসল্লিদের মতামত নিয়ে সকাল ৭:৩০ মিনিটে ঈদের জামাতের সময় নির্ধারণ করে।




সুবলপুর ঈদগাহ ময়দান টি ভৈরব নদ ও মাথাভাঙ্গা নদীর ত্রি মোহনায় অবস্থিত। বলা যায় এখানে তিন গ্রামের লোকজনের মিলনমেলা হয়।  সুবলপুর কাঞ্চনতলা ও কিসমতপুর গ্রামের লোকজন ঈদের নামাজের জন্য এখানে আসে।

 পুরো ময়দানটি আম গাছ দ্বারা আচ্ছাদিত হওয়ায় নামাজ পড়তে তেমন কষ্ট হয় না। যুগ যুগ ধরে চলে আসছে এই মিলন মেলা। ময়দান টি নতুনভাবে সংস্কার করা হয়েছে। তৈরি করা হয়েছে একটি সুউচ্চ মিনার। 




প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও এখানে জড়ো হয় গ্রামের অপমার জনতা। নামাজে মুন্সির দায়িত্ব পালন করে মেহেদী হাসান জিহাদী।

Monday, January 22, 2024

চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের সাপ্তাহিক মাস্টার প্যারেড অনুষ্ঠিত

চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের সাপ্তাহিক মাস্টার প্যারেড অনুষ্ঠিত

 চুয়াডাঙ্গা পুলিশ লাইন্স প্যারেড গ্রাউন্ডে জেলার সকল ইউনিট ইনচার্জ ও অফিসার ফোর্সদের অংশগ্রহণে রবিবার সকাল সাড়ে নয়টার সময় সাপ্তাহিক মাস্টার প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা জেলার পুলিশ সুপার আর এম ফয়জুর রহমান পিপিএম-সেবা অভিবাদন মঞ্চ থেকে সালামি গ্রহণ শেষে প্যারেড পরিদর্শন করেন।

প্যারেড অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন চুয়াডাঙ্গা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার( ক্রাইম এন্ড অপস্) মোঃ নাজিম উদ্দিন আল আজাদ, পিপিএম-সেবা। এ সময় পুলিশ সুপার প্যারেডে অংশগ্রহণকারী অফিসার ফোর্সদের শারীরিক ফিটনেস ও টার্ন আউটের উপর ভিত্তি করে জিএস (গুড সার্ভিসেস) মার্ক প্রদান করেন।

পুলিশ সুপার প্যারেড পরিদর্শনান্তে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এবং জেলা পুলিশের সকল সদস্যের উদ্দেশ্যে আইজিপি রেঞ্জ ডিআইজি প্রদত্ত নির্দেশনা বক্তব্যের মাধ্যমে তুলে ধরেন । এছাড়াও পুলিশ সুপার ২০২৪ সালের ১ম মাস্টার প্যারেডে উপস্থিত টিম চুয়াডাঙ্গার সর্বস্তরের প্রিয় সহকর্মীবৃন্দদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। শীতের তীব্রতা উপেক্ষা করে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের পুলিশ সদস্যবৃন্দের চমৎকার টার্ণ আউট সুনিপুন প্যারেড প্রদর্শনীর জন্য প্রশংসা করেন।

এ সময় তিনি বলেন, সুষ্ঠু সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত রাখার জন্য পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রের একটি অপরিহার্য অঙ্গ হিসেবে পুলিশ দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন করে থাকে। এ মহান দায়িত্ব পালন করতে আইন-শৃঙ্খলা আমাদের শক্তি যোগায়। মাস্টার প্যারেড আমাদের শৃঙ্খলাবদ্ধ হতে সহায়তা করে। পুলিশের স্মার্ট টার্ণ আউট ও আধুনিক কলাকৌশল রপ্ত করার জন্য নিয়মিত প্যারেড অনুশীলনের বিকল্প নেই। সদ্য সমাপ্ত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনারা পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। সেজন্য আপনাদের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। আজকের মাস্টার প্যারেডে নৈপুণ্য প্রদর্শনের জন্য সকল ফোর্সকে GS মার্ক এবং ১০০(একশত) টাকা অর্থ পুরস্কার প্রদান করা হলো।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) রিয়াজুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) নাজিম উদ্দীন আল আজাদ পিপিএম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আনিসুজ্জামান, সহকারী পুলিশ সুপার (দামুড়হুদা সার্কেল) জাকিয়া সুলতানা, চুয়াডাঙ্গা পুলিশ হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার হুমায়রা আক্তার,পুলিশ পরিদর্শক(নিঃ) সাইফুল ইসলাম, ডিএসবি সকল অফিসার ইনচার্জ, কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক, আরআই, আরওআই, টিআই (প্রশাসন), সকল ক্যাম্প ইনচার্জসহ চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের বিভিন্ন পদমর্যাদার অফিসার ও ফোর্স।

তথ্যসূত্রঃ এখানে 

দামুড়হুদার দলকা বিলে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষ

দামুড়হুদার দলকা বিলে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষ

দামুড়হুদা উপজেলার গোপালপুর গ্রামের দলকা বিলে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের চার জন আহত হয়েছে। আহতরা দামুড়হুদা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ ঘটনায় দামুড়হুদা মডেল থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা করেছেন। 



উভয় পক্ষের আহতরা হলেন, গোপালপুর গ্রামের আমির হামজার ছেলে জুড়ানপুর ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম (৫০) আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে রুহুল আমীন, অপর পক্ষে একই গ্রামের জালাল মন্ডলের ছেলে মোজাম্মেল ও নুরুল আলমের ছেলে বখতিয়ার হোসেন। হাসপাতালে ভর্তি আছে এবং প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বেশ কয়েকজন বাড়ি ফিরে গেছে। এবিষয়ে উভয় পক্ষ দামুড়হুদা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছে। এক পক্ষের বাদি উপজেলার গোপালপুর গ্রামের মৃত জালাল মন্ডলের ছেলে মোঃ হকাজ্জেল (৪৫) এবং অপর পক্ষের বাদি একই গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে মো: রুহুল আমীন (৩০)। উভয় পক্ষ প্রায় ১৫ জনের নামে মামলা দায়ের করে।

পুলিশ সুত্রে জানাগেছে, গতকাল রোববার সকালে দামুড়হুদা উপজেলার দলকা লক্ষিপুর বিল নিয়ে দুই পক্ষ মারামারি করেছে। এতে উভয় পক্ষের ৪ জন আহত হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি আছে এবং প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বেশ কয়েকজন বাড়ি ফিরে গেছে। দুই পক্ষই দামুড়হুদা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছে। উভয় পক্ষের মামলা দামুড়হুদা মডেল থানায় প্রক্রিয়াধীন ছিল এবং মারামারির ঘটনায় দামুড়হুদা মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

দলকা লক্ষিপুর বিল মৎস্য সমবায় সমিতর পক্ষে মামলার বাদি উপজেলার গোপালপুর গ্রামের মৃত জালাল মন্ডলের ছেলে মোঃ হকাজ্জেল বলেন, আমরা নৌকার পক্ষে ভোট করায় দলকার বিলের বিষয় নিয়ে আমাদেরকে স্বতন্ত্র ট্রাকের নেতাকর্মীরা হামলা চালাচ্ছে। আবার ওপর পক্ষ দলকা বিলে হেমায়েতপুর প্রগতি মৎসজীবী সমবায় সমিতির পক্ষে পাহারাদার ও মামলার বাদি উপজেলার গোপালপুর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে মো: রুহুল আমীন বলেন, আমরা স্বতন্ত্র ট্রাকের পক্ষে ভোট করায় দলকার বিলের বিষয় নিয়ে নৌকার পক্ষের লোকজন আমাদের উপরে হামলা চালাচ্ছে। তাদেরকে বিলে মাছ ধরতে নিষেধ করলেও তারা জোরপূর্বক বিলে মাছ ধরে এবং আমাকে সহ একজন ইউপি সদস্যকেও মারধর করে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসী জেলা প্রশাসক ও চুয়াডাঙ্গা ০২ আসনের সংসদ সদস্য হাজি মো: আলী আজগার টগর এমপির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

এবিষয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি আলমগীর কবির বলেন, দুই পক্ষের মামলা রেকর্ড হয়েছে। আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তথ্যসূত্রঃ এখানে

Friday, November 17, 2023

একনজরে চুয়াডাঙ্গা জেলা

একনজরে চুয়াডাঙ্গা জেলা

 চুয়াডাঙ্গা জেলা (খুলনা বিভাগ)  আয়তন: ১১৭৪.১০ বর্গ কিমি। অবস্থান: ২৩°২২´ থেকে ২৩°৫০´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮°৩৯´ থেকে ৮৯°০০´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ। সীমানা: উত্তরে কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর জেলা, পূর্ব এবং দক্ষিণে ঝিনাইদহ জেলা, পশ্চিমে মেহেরপুর জেলা এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য।

জনসংখ্যা ১১২৯০১৫; পুরুষ ৫৬৪৮১৯, মহিলা ৫৬৪১৯৬। মুসলিম ১১০০৩৩০, হিন্দু ২৬৫১৪, খ্রিস্টান ১৫৯৩, বৌদ্ধ ২২ এবং অন্যান্য ৫৫৬।

জলাশয় প্রধান নদী: মাথাভাঙ্গা, ভৈরব, চিত্রা, নবগঙ্গা, কুমার। ভান্ডারদহ বিল, উজলপুর বিল, মাহেশ্বরী বিল, নেহালপুর বিল, ঝাঝরি বিল, নুরুল্লাপুর বিল এবং বেগমপুর ও চাঁদপুর বাওড় উল্লেখযোগ্য।

প্রশাসন ভারত বিভাগের পূর্বে চুয়াডাঙ্গা মহকুমা নদীয়া জেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের সময় কৃষ্ণগঞ্জ থানা বাদ দিয়ে সমগ্র চুয়াডাঙ্গা মহকুমা পূর্ব বাংলার কুষ্টিয়া জেলার অধীন হয়। ১৯৮৪ সালে চুয়াডাঙ্গা জেলায় উন্নীত হয়।

জেলা
আয়তন (বর্গ কিমি)উপজেলাপৌরসভাইউনিয়নমৌজাগ্রামজনসংখ্যাঘনত্ব (প্রতি বর্গ কিমি)শিক্ষার হার (%)
শহরগ্রাম
১১৭৪.১০৩২৩৪৮৫২১৩০৬১৫৭৮২২৮৫৮৯৬২৪৫.৯
জেলার অন্যান্য তথ্য
উপজেলা নামআয়তন (বর্গ কিমি)পৌরসভাইউনিয়নমৌজাগ্রামজনসংখ্যাঘনত্ব (প্রতি বর্গ কিমি)শিক্ষার হার (%)
আলমডাঙ্গা৩৬৪.৬৬১৪১২৩২০৪৩৪৫৯২২৯৪৯৪৫.৭
চুয়াডাঙ্গা সদর২৯৮.২৭৮৯১২৭৩১৩৯৩৫১০৫২৪৭.৬
জীবন নগর১৯৯.২৪৬২৮৩১৭৯৫৮১৯০১৪৬.১
দামুড়হুদা৩১১.৯১৭৪১০৭২৮৯৫৭৭৯২৮৪৪.২

সূত্র আদমশুমারি রিপোর্ট ২০১১, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।

দর্শনীয়স্থান সমূহ:

প্রাচীন নিদর্শনাদি ও প্রত্নসম্পদ ঘোলদাড়ি জামে মসজিদ (আলমডাঙ্গা), চুয়াডাঙ্গা বড় মসজিদ, তিনগম্বুজবিশিষ্ট ধোপাখালী মসজিদ, ঠাকুরপুর মসজিদ (১৬৯৮), শিবনগর চার পীরের মাজার ও মসজিদ, পারেশ শাহের মাজার, জামজামি মসজিদ, তিয়রবিলা মসজিদ, সোনাতনপুর মন্দির, জগন্নাথপুর মন্দির, ঘোলদাড়ি নীলকুঠি, কার্পাসডাঙ্গা নীলকুঠি।

ঐতিহাসিক ঘটনাবলি ব্রিটিশ শাসনের সূচনা থেকেই এ জেলার অধিবাসীরা বিভিন্ন বিদ্রোহ ও আন্দোলনে শামিল হয়েছে। ওহাবী আন্দোলন (১৮৩১), ফরায়েজী আন্দোলন (১৮৩৮-১৮৪৭), সিপাহী-আন্দোলন (১৮৫৭), নীলবিদ্রোহ (১৮৫৯-১৮৬১), স্বদেশী আন্দোলন (১৯০৬), খেলাফত আন্দোলন (১৯২০), অসহযোগ আন্দোলন, আইন অমান্য ও সত্যাগ্রহ-আন্দোলন (১৯২০-১৯৪০), আগস্ট-বিপ্লব (১৯৪২), কৃষক-আন্দোলন এবং স্বাধীনতা আন্দোলনে চুয়াডাঙ্গার মানুষের উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নেই চুয়াডাঙ্গায় তীব্র প্রতিরোধ গড়ে ওঠে এবং মুক্তিযোদ্ধা ও পাকবাহিনীর সাথে শতাধিক ছোটবড় যুদ্ধ সংঘটিত হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় আলমডাঙ্গা উপজেলার বালিয়াপুর ও বেনাগাড়ি গ্রামের সীমান্তে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে পাকবাহিনীর লড়াইয়ে বেশ কয়েকজন পাকসেনা ও রাজাকার হতাহত হয়। জীবননগর-দর্শনার মাঝামাঝি শিয়ালমারীতে মুক্তিবাহিনীর পেতে রাখা মাইন বিস্ফোরণে ১০ জন পাকসেনা নিহত হয়। এছাড়া ধোপাখালি সীমান্তে পাকবাহিনীর সঙ্গে মুক্তিবাহিনীর লড়াইয়ে ৫ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন এবং ২ জন আহত হন। দামুড়হুদার মদনা গ্রামে পাকবাহিনী অসংখ্য ঘরবাড়ী পুড়িয়ে দেয় এবং বহু নিরীহ লোককে নির্মমভাবে হত্যা করে। মুক্তিযুদ্ধের সময় বর্তমান চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল ছিল পাকবাহিনীর হেড কোয়ার্টার। সদর হাসপাতালের পিছনে বর্তমান শান্তিপাড়ায় পাকবাহিনী প্রায় তিন শতাধিক নিরীহ লোককে নির্মমভাবে হত্যা করে। তাছাড়া পাকবাহিনী চুয়াডাঙ্গা ছেড়ে যাবার সময় বোমা বিস্ফোরণে করে মাথাভাঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত ব্রিজের এক অংশ উড়িয়ে দেয়। চুয়াডাঙ্গা জেলায় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে ১টি বধ্যভূমি (চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের পেছনে), ৩টি গণকবর (নাটুদহ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পেছনে, জীবননগর সীমান্তসংলগ্ন ধোপাখালি গ্রাম, আলমডাঙ্গা রেলস্টেশনের পার্শ্বে জি.কে খালের তীরবর্তী স্থান) এবং ৩টি স্মৃতিস্তম্ভ রয়েছে।

শিক্ষার হার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড় হার ৪৫.৯%; পুরুষ ৪৬.৯%, মহিলা ৪৪.৯%। কলেজ ১২, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১১৭, প্রাথমিক বিদ্যালয় ২৫৯, ভোকেশনাল ট্রেনিং কলেজ ০১, নার্সিং ইনস্টিটিউট ০১। উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ (১৯৬২), দর্শনা সরকারি কলেজ (১৯৬৯), চুয়াডাঙ্গা পৌর কলেজ (১৯৮৩), চুয়াডাঙ্গা আদর্শ মহিলা কলেজ (১৯৮৩), জীবননগর কলেজ (১৯৮৪), ভি. জে. (ভিক্টোরিয়া জুবিলি) সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় (১৮৮০), নাটুদা মাধ্যমিক বিদ্যালয় (১৯০৬), দামুড়হুদা পাইলট হাইস্কুল (১৯১৩), আলমডাঙ্গা বহুমুখী (পাইলট) মাধ্যমিক বিদ্যালয় (১৯১৪), মেমনগর বি.ডি. মাধ্যমিক বিদ্যালয় (১৯১৬), কুড়লগাছি মাধ্যমিক বিদ্যালয় (১৯২৩), হাটবোয়ালিয়া উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় (১৯২৫), কলাবাড়ি-রামনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয় (১৯২৬), মুন্সিগঞ্জ একাডেমি (১৯৩৫), কার্পাসডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয় (১৯৪০), ওসমানপুর প্রাগপুর মাদ্রাসা (১৯৪৯), কুনিয়া-চাঁদপুর মাদ্রাসা (১৯৫৮), বদরগঞ্জ আলিয়া মাদ্রাসা (১৯৬৪)।

জনগোষ্ঠীর আয়ের প্রধান উৎস কৃষি ৬৫.১৪%, অকৃষি শ্রমিক ২.৯৯%, শিল্প ১.৪০%,  ব্যবসা ১৪.২৪%, পরিবহন ও যোগাযোগ ৩.৪৬%, চাকরি ৫.৫৭%, নির্মাণ ১.২৮%, ধর্মীয় সেবা ০.১৫%, রেন্ট অ্যান্ড রেমিটেন্স ০.৩৯% এবং অন্যান্য ৫.৩৮%।

পত্র-পত্রিকা ও সাময়িকী দৈনিক: মাথাভাঙ্গা, প্রথম রাজধানী; সাপ্তাহিক: চুয়াডাঙ্গা দর্পণ, চুয়াডাঙ্গা সমাচার, দিনবদলের কাগজ।

লোকসংস্কৃতি মুর্শিদী, মারফতী ও বাউল গানচর্চা ছাড়াও যাত্রা, ভাব গান, ভাসান গান, কবিগান, মানিক পীরের গান, কৃষকের মেঠো গান, গাজীর গীত উল্লেখযোগ্য।  [রাজীব আহমেদ]

আরও দেখুন সংশ্লিষ্ট উপজেলা।

তথ্যসূত্র  আদমশুমারি রিপোর্ট ২০০১ ও ২০১১, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো; চুয়াডাঙ্গা জেলার সাংস্কৃতিক সমীক্ষা প্রতিবেদন ২০০৭; চুয়াডাঙ্গা জেলার উপজেলা সমূহের সাংস্কৃতিক সমীক্ষা প্রতিবেদন ২০০৭।

Tuesday, November 14, 2023

শীতের আগাম সবজিতে কৃষকের মুখে হাসি

শীতের আগাম সবজিতে কৃষকের মুখে হাসি

 শরতের বিদায় ঘনিয়ে আসছে। হেমন্ত উঁকি দিচ্ছে প্রকৃতিতে। শীত আসতে বাকি এখনো দুই মাসের বেশি। আর এ সময়ে শীতের হরেক রকম সবজি চাষে মেতেছেন বগুড়ার কৃষকেরা। মাঠে মাঠে শীতকালীন সবজি চাষের ধুম পড়েছে। অবশ্য কোনো কোনো এলাকার চাষি আগেভাগেই খেতে শীতের সবজি চাষ করেছেন।


এরই মধ্যে মুলা, শিম, বাঁধাকপি, ফুলকপি, গাজরসহ বেশ কিছু শীতের আগাম সবজি বাজারে উঠেছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এসব সবজির দাম বেশি। ভালো দাম পাওয়ায় শীতকালীন সবজি চাষে আগ্রহ বেড়েছে কৃষকদের। আবার আবহাওয়াও কৃষকের অনুকূলে।

Saturday, November 11, 2023

যে পাঁচ আমলে জান্নাতে যাওয়ার পথ সুগম হবে

যে পাঁচ আমলে জান্নাতে যাওয়ার পথ সুগম হবে



রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উম্মতের জন্য জান্নাতে যাওয়ার অনেক আমলের বর্ণনা দিয়েছেন। এসব আমল বান্দার অপরাধ ও পাপ থেকে মুক্ত থাকার মাধ্যমে জান্নাতে যাওয়া সুনিশ্চিত। এর মধ্যে ৫টি আমল অন্যতম। তাহলো-

১. সাইয়েদুল ইসতেগফার

যে ব্যক্তি দিনে (সকালে) দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে এ ইসতেগফার পড়বে আর সন্ধ্যার আগেই সে মারা যাবে; সে জান্নাতি হবে।

আর যে ব্যক্তি রাতে (প্রথম ভাগে) দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে তা পড়বে আর সে ভোর হওয়ার আগে মারা যাবে; সে জান্নাতি হবে। ’ (বুখারি)
أَللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّيْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِيْ وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা আংতা রাব্বি লা ইলাহা ইল্লা আংতা খালাক্বতানি ওয়া আনা আবদুকা ওয়া আনা আলা আহদিকা ওয়া ওয়াদিকা মাসতাতাতু আউজুবিকা মিং শাররি মা সানাতু আবুউলাকা বি-নিমাতিকা আলাইয়্যা ওয়া আবুউ বিজান্মি ফাগফিরলি ফা-ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আংতা। ’

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! তুমি আমার প্রতিপালক, তুমি ছাড়া কোনো প্রভু নাই। তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছ। আমি তোমার বান্দা। আমি সাধ্যমত তোমার কাছে দেয়া ওয়াদা ও প্রতিশ্রুতিগুলো পালনে সচেষ্ট আছি। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই। আমাকে যে নেয়ামত দান করেছ, তা স্বীকার করছি এবং আমি আমার পাপগুলো স্বীকার করছি। অতএব তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও। কেননা তুমি ছাড়া কেউ ক্ষমাকারী নেই। ’

২. কালেমা শাহাদাত পড়া

হজরত ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে কোনো মুসলিম ব্যক্তি উত্তমরূপে ওজু করার পর (কালেমা শাহাদাত) বলে-
أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ

উচ্চারণ : আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহু। ’

অর্থ : ‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরিক নেই, তিনি একক এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, (হজরত) মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসুল। ’

তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে দেয়া হবে। সে যে কোনো দরজা দিয়ে ইচ্ছা তাতে প্রবেশ করবে। ’ (ইবনে মাজাহ, তিরমিজি, নাসাঈ, মুসনাদে আহমাদ)

৩. আজানের উত্তর দেয়া

হজরত বেলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু যখন (আজান থেকে) থামলেন তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, যে ব্যক্তি দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে এর (হজরত বেলালের) মতো বলবে, সে বেহেশতে প্রবেশ করবে। ’ (নাসাঈ, মেশকাত)

৪. আয়াতুল কুরসি পড়া

হজরত আবু উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পড়বে-
اللّهُ لاَ إِلَـهَ إِلاَّ هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لاَ تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلاَ نَوْمٌ لَّهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الأَرْضِ مَن ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلاَّ بِإِذْنِهِ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلاَ يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِّنْ عِلْمِهِ إِلاَّ بِمَا شَاء وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ وَلاَ يَؤُودُهُ حِفْظُهُمَا وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ

উচ্চারণ: আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল ক্বাইয়্যুম। লা তাঅ খুযুহু সিনাতুঁও ওয়া লা নাওম। লাহু মা ফিস্ সামাওয়াতি ওয়া মা ফিল আরদ্বি। মাং জাল্লাজি ইয়াশফাউ ইংদাহু ইল্লা বি-ইজনিহি। ইয়ালামু মা বাইনা আইদিহিম ওয়া মা খালফাহুম, ওয়া লা ইউহিতুনা বিশাইয়্যিম্ মিন ইলমিহি ইল্লা বিমা শাআ ওয়াসিআ কুরসিইয়্যুহুস্ সামাওয়াতি ওয়াল আরদ্বি, ওয়া লা ইয়াউদুহু হিফজুহুমা ওয়া হুওয়াল ‘আলিয়্যুল আজিম। ’

ওই ব্যক্তির জন্য জান্নাতে প্রবেশ করা মৃত্যু ছাড়া আর কোনো কিছু বাধা থাকবে না। ’ (বুখারি, নাসাঈ, তাবারানি)

৫. ৪০ রাত জামাআতে ইশার নামাজ পড়া

হজরত ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলতেন- ‘যে ব্যক্তি মসজিদে এসে জামাআতের সঙ্গে ৪০ রাত তাকবিরে উলাসহ ইশার নামাজ পড়বে, তার বিনিময়ে আল্লাহ জাহান্নাম থেকে তার মুক্তির সনদ লিখে দেন। ’ (ইবনে মাজাহ)

বড়বলদিয়া স্কুল এ্যান্ড কলেজে বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

বড়বলদিয়া স্কুল এ্যান্ড কলেজে বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

 

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

দর্শনার বড়বলদিয়া স্কুল এ্যান্ড কলেজের সাবেক প্রধান শিক্ষক ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ্য মহাঃ ইউসুপ আলীর বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।বড়বলদিয়া স্কুল এ্যান্ড কলেজের শিক্ষক-কর্মচারী ও ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দের আয়োজনে গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে বড়বলদিয়া স্কুল এ্যান্ড কলেজ মাঠ প্রাঙ্গণে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

বড়বলদিয়া স্কুল এ্যান্ড কলেজের সভাপতি হজরত আলীর সভাপতিিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দামুড়হুদা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলী মুনসুর বাবু।

সিনিয়র সহকারী শিক্ষক জিয়াবুদ্দিন এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বড় বলদিয়া স্কুল এন্ড কলেজের সাবেক সভাপতি গোলাম রহমান, সাবেক সহ সভাপতি হাবিবুল্লাহ, দাতা সদস্য বরকত আলীসহ বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত সকল শিক্ষার্থীবৃন্দ, সাবেক শিক্ষার্থীবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ, অভিভাবকবৃন্দ ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন বড় বলদিয়া স্কুল এন্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তক্কেল আলী।

কুড়ুলগাছি ইউপি চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন ডেঙ্গু আক্রান্ত

কুড়ুলগাছি ইউপি চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন ডেঙ্গু আক্রান্ত

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন দামুড়হুদা উপজেলার কুড়ুলগাছি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন। গতকাল শুক্রবার সকালে পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসার জন্য চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিনকে সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাঁকে ভর্তি রাখেন। পরিরারের সদস্যরা জানান, সম্প্রতি জ্বরে আক্রান্ত হলে কামাল উদ্দিন ডেঙ্গু পরীক্ষা করান। রিপোর্টে তিনি ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন জানতে পারলে চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গতকাল শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তার অবস্থা উন্নতির দিকে ছিল। এদিকে, ইউপি চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিনের রোগমুক্তি কামনা করেছেন ইউনিয়নবাসীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
শ্রদ্ধেয় বিমানবাবু ~ সিদ্ধার্থ রায়

শ্রদ্ধেয় বিমানবাবু ~ সিদ্ধার্থ রায়

 শ্রদ্ধেয় বিমানবাবু,

কাল সন্ধ্যায় আবারও আপনাকে TV-র পর্দায় দেখলাম প্রাইমটাইম-এ আপনার কমেন্ট্‌স দিচ্ছেন মঙ্গলকোটের 'অমঙ্গল' কান্ড নিয়ে। আপনি আপনার চিরাচরিত বিচক্ষন শব্দচয়নের মাধ্যমে জানালেন আপনার তীব্র নিন্দা, উক্ত ঘটনার প্রতি। কংগ্রেসি বিধায়ক এবং দলনেতাদের প্রতি আপনার ব্যক্ত উদ্বেগ খুবই সমিচিন এবং সদর্থক। এখানেই না থেমে আপনি কড়া ধমক দিয়েছেন আপনার নিজের পার্টীকর্মিদের এবং অতি দ্রূতভাবে তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার ব্যবস্থাও করেছেন। মার্ক্সবাদী কম্যুনিস্ট পার্টীর রাজ্য সম্পাদকের পদে আপনার এই ক বছরে উপরুক্ত নিন্দা প্রকাশের কাজে আপনি অতুলনিয় পারদর্শিতা দেখিয়েছেন। বিভিন্ন জায়গায় ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার পরে আপনার পরিস্থিতির প্রতি কড়া নজর রাখার আশ্বাসও বাংলার মানুষের কাছে অপরিচিত নয়। তবে যেটা অভূতপূর্ব এবং অপরিচিত সেটা হল দ্রুত এবং দৃঢ পদক্ষেপ নেওয়া। বিগত কয়েক বছরে হিংসাচারের ঘটনা বিরল নয় এটা অনস্বীকার্য তবে এ হেন ক্ষেত্রে, অর্থাৎ যার পরে আপনি এত শীঘ্র এত দৃঢ় পদক্ষেপ নিলেন, তাতে এই ঘটনা নিশ্চয় বিরল!


মানসবাবু তথা বাকি "আক্রান্ত" কংগ্রেসি দলের নেতারা নিশ্চয়ই খুব ভাগ্যবান যে তাঁরা এক বিরল পুরষ্কারের পাত্র হলেন এই মঙ্গলকোটের ঘটনায়। পুরষ্কারটি হল আপনার দ্রুত এবং দৃঢ় পদক্ষেপ যা কয়েকশ হতভাগা মার্ক্সবাদি কর্মিদের নাগালের বাইরে। যদিও বা তাঁরা সিঙ্গুর নন্দিগ্রাম লালগড় তথা বাকি জায়গায় আপনার এবং বাকি নেতৃবৃন্দের দেওয়া ডাককেই রুপায়িত করতে গিয়েই প্রান হারাচ্ছেন, তাও তাঁরা এত সৌভাগ্যের অধিকারি নয়। দলিয় মুখপাত্রের এক লাইন হওয়ার সৌভাগ্য তাদের হলেও তাঁরা বা তাদের আত্মিয় পরিজনেরা আপনার দ্রুত এবং দৃঢ় পদক্ষেপের প্রার্থি নয়। বোধ হয় পার্টী নেতৃত্ত্বে আর বিশ্বাস না থাকায় মাঠেঘাটের পার্টীকর্মিরা নিজেরাই পদক্ষেপ নিচ্ছেন। তবে আপানার কড়া বক্তব্যে এটা পরিষ্কার যে পার্টী এবং তার কর্মিদের আপনি অকাতরভাবে আরও সংশোধনের দিকে নিয়ে জেতে ইচ্ছুক। মনে পড়ে ছেলেবেলায় মামার বাড়িতে রক্ষেকালি পুজোর সময়ে বলি হওয়ার আগে মন্দিরের অনতিদুরে বাঁধা পাঁঠকে দেখে কাঁদছিলাম বলে আমার এক মামা আমায় বলেছিলেন "ওরে বোকা ও তো এক বড় কাজের জন্য মরছে আর তাতে তুই কাঁদছিস্‌? ছিঃ ছিঃ কি বোকা রে তুই!" বুঝতে পারছি আজও সেই বোকাটা রয়ে গেলুম।

ইতি

এক জনৈক হতভাগা



Collected

Wednesday, November 8, 2023

আল মাহমুদ

আল মাহমুদ


আল মাহমুদ

আল মাহমুদ ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রকৃত নাম মীর আব্দুস শুকুর আল মাহমুদ। তিনি বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান কবি।কাব্যগ্রন্থ লোক লোকান্তর(১৯৬৩) সর্বপ্রথম তাকে স্বনামধন্য কবি দের সারি তে জায়গা করে দেয়। এরপর কালের কলস(১৯৬৬),সোনালি কাবিন(১৯৬৬),মায়াবী পর্দা দুলে উঠো(১৯৬৯) কাব্যগ্রন্থ গুলো তাকে প্রথম সারির কবি হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত করে। ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি গল্প লেখার দিকে মনোযোগী হন। ১৯৭৫ সালে তার প্রথম ছোট গল্পগ্রন্থ পানকৌড়ির রক্ত প্রকাশিত হয়। ১৯৯৩ সালে বের হয় তার প্রথম উপন্যাস কবি ও কোলাহল। আল মাহমুদ সাংবাদিক হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু করেন।১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পরে তিনি দৈনিক গণকন্ঠ পত্রিকাত সহকারী সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন।তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের সময় একবার জেল খাটেন ।পরে তিনি শিল্পকলা একাডেমীতে যোগদান করেন এবং পরিচালক হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন।

Thursday, October 12, 2023

রাসূল (সা.) এর সম্পর্কে দশ অজানা তথ্য

রাসূল (সা.) এর সম্পর্কে দশ অজানা তথ্য





     রাসূল (সা.) এর জন্মদিনই শুধু তাকে স্মরণ করার উপলক্ষ নয়, বরং তার জীবনালেক্ষ্য আমাদের জন্য সকল সময়ের জন্য আলোচ্যবস্তু।

    এখানে রাসূল (সা.) এর জীবনের প্রায় অজানা বিভিন্ন তথ্য থেকে দশটি তথ্য উল্লেখ করা হল।

    ১. তার প্রিয় রং ছিল সবুজ। 


    ২. তার প্রিয় খাবার ছিল মধু।

    ৩. ঠান্ডা মিষ্টি পানি ছিল তার প্রিয় পানীয়।

    ৪. তার লালা ছিল বাস্তবিকভাবেই বিভিন্ন রোগ আরোগ্যকারী।

    ৫. তার ঘাম ছিল সুগন্ধিযুক্ত।

    ৬. তার কণ্ঠস্বর এতই জোরালো ছিল যে, বিদায় হজ্জ্বের দিন অন্যকারো সাহায্য ছাড়া তার বক্তব্য তিনি ১,২৪,০০০ হাজীর সামনে প্রদান করেছিলেন।

    ৭. তিনি কারো কথার মাঝে বাধা দেওয়া বা তার কথার মাঝে কারো বাধা দেওয়াকে পছন্দ করতেন না।

    ৮. সকল নবী-রাসূলের মধ্যে তিনি ছিলেন সুন্দরতম।

    ৯. ঘুমানোর সময় তিনি ডানে কাত হয়ে ডান হাতকে ডান গালের নিচে রেখে ঘুমাতেন।

    ১০. প্রতিরাতে ঘুমানোর পূর্বে বা ঘুম থেকে উঠার পর তার মিসওয়াক ব্যবহারের অভ্যাস ছিল।


    Tuesday, September 5, 2023

    এই বরষায়

    এই বরষায়

    বিষাদের বাঁধ ভেঙে অঝোর ধারায়

    আমার সারাটা দিন মেঘলা আকাশ, বৃষ্টি তোমাকে দিলাম
    আনমনে থেকে থেকে
    মেঘের আড়ালে ঢেকে
    গুমরে আকাশ কাঁদে এই বরষায়।
    ঐ বুঝি শোনা যায় হাহাকার তার,
    থমথমে গুরু ধ্বনি
    ক্ষণে ক্ষণে তাই শুনি,
    সাথে তার ঝরঝর ঝরে পারাবার।


    প্রকৃতি মেতেছে বুঝি হেঁয়ালি খেলায়,
    নূপুরের সুরে সুরে
    দূর থেকে আরও দূরে
    ভেসে যায় সুর তার বেলা-অবেলায়।
    সূর্যের আলোরেখা অবাক মায়ায়
    মেঘেদের ফাঁকে ফাঁকে
    ক্ষণিকের হাসি আঁকে,
    পরক্ষণে ঢাকে সবই আঁধার ছায়ায়!


    বরষার ঘনঘোরে ভিজে এই মন
    সকরুণ মেঘ দেখে
    নিজেও বিষাদ মেখে
    গেঁথে যায় স্মৃতিদের অলস কথন।
    বিষণ্ণ প্রকৃতি ও বিরহী হৃদয়
    দুই ক্ষরণের জলে
    বিশুদ্ধ হবে বলে
    ধুয়ে চলে জমে থাকা ধুলোর বলয়।

    Friday, August 18, 2023

    আমি ও সমাজ

    আমি ও সমাজ

     সিগারেটে শেষ টানটা দিয়ে অবশিষ্টটা ফুটপাথে ছুড়ে ফেলল ইশতিয়াক । তারপর একটু দ্রুত এগিয়ে গিয়ে সেই আগুনের ফুলকি জ্বলতে থাকা অবশিষ্টাংশ পা দিয়ে মাড়িয়ে দিলো ও।


    সিগারেটে খুব অভ্যাস নেই ইশতিয়াকের। তাই এখন মাথাটা খুব ঝিম ঝিম করছে। হাটতেও কষ্ট হচ্ছে কিছুটা। কোথাও বসে পড়লে ভালো হতো। কিন্তু না। এই রাতের বেলা ফুতপাথে বসে থাকার থেকে আরো পাঁচ মিনিট হেটে মেস পর্যন্ত যেতে পারলে সারাদিন বাইরে থাকা ক্লান্ত শরীরটাকে একটু এলিয়ে দেওয়া যাবে।



    খুব কান্না পাচ্ছে। একটা তরুণকে কি কান্না শোভা পায়?
    ও জানে না, পায় কি না। কিন্তু একটুকু জানে, কান্না করতে করতে যখন ক্লান্ত হয়ে যায়, তখন একটু হলেও হৃদয়ের আগুনটা দমে।

    সিগারেটের আগুন অনেক ভাবে নিভানো যায়। পা দিয়ে মাড়িয়ে, পানি ঢেলে দিয়ে।
    কিন্তু হৃদয়ের অঙ্গার কিভাবে নিভাবে ও? মেয়েটাকে ভোলার জন্য নিজের মনের উপর অত্যাচার কম করেনি। পিষেছে নিজেকে প্রতিদিন, কই কিচ্ছু লাভ তো হয়নি? কান্নার জল ও ঢেলেছে অনেক, তাতেও কিছু হয়নি।

    অনেকের কাছে, অনেক গল্পে পড়েছে ও, প্রথম প্রেম নাকি ভোলা যায় না, প্রথম প্রেম নাকি হেন হয় না তেন হয় না। কিন্তু এগুলোর মানে টা আগে কখনোই বুঝতে পারে নি ইশতিয়াক।
    মানুষের ভাষার সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হলো আবেগকে একদম পুরোপুরিভাবে কখনোই প্রকাশ করা যায় না শব্দ দিয়ে। কে জানে, বড় কবি সাহিত্যিকরা হয়তো পারেন।

    যে রাস্তাদিয়ে যাচ্ছে ও এখন সেটা ভাঙা ও খানাখন্দে ভর্তি। রাস্তার সংস্কার কাজ চলছে, রাস্তাটিকে নতুন করে তৈরি করা হবে। রাস্তার সমস্ত ত্রুটি সংশোধন করা হবে।
    যদি সব কিছুকেই এভাবে সংস্কার করা যেতো তাহলে ওর সমাজকে একটু সংস্কার করত ইশতিয়াক । কথাগুলো একটু ক্ষোভের সাথেই ভাবে আমি

    এমন সমাজের কোন মানে হয় না, যেখানে একটা ছেলে ও একটা মেয়ে পরষ্পরকে ভালোবাসে কিন্তু তারা দুঃখের গন্ডি পেরিয়ে সুখের স্বপ্নটুকু দেখতে পারে না সমাজের ভয়ে। ভিন্ন ধর্মাবলম্বী হওয়ায় মেয়েটা তার ইচ্ছেগুলো বলি দেয় বাবার অপমানের কথা ভেবে। ধর্ম ও সমাজের গন্ডিতে বাঁধা সমাজের মূল্য খুঁজতে থাকে ছেলেটা।

    মেস এর কাছে চলে এসেছে ইশতিয়াক। ভাবনাগুলো বাদ দিয়ে আজ রাতে অন্তত একটু ঘুমাতে চায় ও। ও হ্যা, ধূমপানবিদ্বেষী একটা ছেলের মুখে সিগারেটের গন্ধ মেসের কেও টের পেলে ব্যাপারটা ভালো হবে না। সমাজ খারাপ বলবে!

    পকেট থেকে একটা "সেন্টার ফ্রেশ" বের করে মুখে পুরল ও। ভাবনাগুলো এবং সিগারেটের গন্ধ দুটোরই কবর দেওয়ার চেষ্টা।

    Sunday, September 25, 2022

    লালাখাল

    লালাখাল





      লালাখাল (Lalakhal) সিলেট শহর থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরে জৈন্তাপুর উপজেলায় অবস্থিত। ভারতের চেরাপুঞ্জির ঠিক নিচেই লালাখালের অবস্থান। চেরাপুঞ্জি পাহাড় থেকে উৎপন্ন এই নদী বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত। 

      লালাখাল এর তামাবিল রোডের কাছে সারি নদী। এই খালের সবচেয়ে আকর্ষণীয় যে বিষয় তা হচ্ছে বিভিন্ন কালারের পানি। খালের একেক অংশে একেক ধরনের কালার। যেমন নীল, সবুজ ও স্বচ্ছ পানি। সারি নদীর স্বচ্ছ জলরাশির উপর দিয়ে নৌকা অথবা স্পীডবোটে করে আপনি যেতে পারেন লালাখালে। ৪৫ মিনিট যাত্রা শেষে আপনি পৌঁছে যাবেন লালাখাল চা বাগানের ফ্যাক্টরি ঘাটে। এসময় মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকবেন নদীর পানির দিকে। কি সুন্দর নীল, একদম নিচে দেখা যায়। 

      লালাখাল যাওয়ার উপযুক্ত সময়

      লালাখাল বেড়ানোর উপযুক্ত সময় শীতকাল। শীতের সময়টায় আপনি পাবেন চমৎকার নীল জলরাশি। বর্ষার স্রোত থাকে না তখন। তাই পানি শান্ত, স্বচ্ছ। একেবারে যেন নদীর তলদেশ দেখা যায় উপর থেকে। ভাবা যায় না যে পানি এত স্বচ্ছ হতে পারে! বর্ষায় স্রোতের সময় পানির রং হারিয়ে যায়। শীতের সময় বোনাস হিসেবে দেখতে পাবেন হরেক রকম শীতের পাখি।

      কিভাবে যাবেন

      লালাখালে যেতে হলে সিলেটের শিশু পার্কের সামনে থেকে লেগুনা অথবা জাফলংয়ের বাসে চেপে সিলেট-তামাবিল সড়ক ধরে যেতে হবে সারিঘাট। সিলেট আর জাফলং মাঝামাঝি এ স্থানটির নাম সারিঘাট। আগেই বলা হয়েছে, যাওয়ার জন্য পথ দুটি সড়কপথ ও নৌপথ। সড়ক পথে যেতে চাইলে মাইক্রোবাস বা কার ভাড়া নিলে ভালো হয়। তা ছাড়া সিলেট শহর থেকে বাস, লেগুনায় সারিঘাট গিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া নিতে পারেন। নৌপথে যেতে চাইলে আগে সারিঘাট পর্যন্ত একই নিয়মে বাস, লেগুনায় গিয়ে নৌযান ভাড়া নিতে হবে। ফেরার পথে এখান থেকে বাসে কিংবা লেগুনায় আসতে পারবেন। রাত ৮টা নাগাদ যানবাহন পাওয়া যাবে।

      কোথায় থাকবেন

      আপনি চাইলে পারবেন লালাখাল এর পাড়ে রাত কাটাতে। নর্দার্ন রিসোর্ট নামে রিসোর্টটির নিজেদের পরিবহন ব্যবস্থাও আছে।

      আরেকটি আবাসন ব্যবস্থা হলো নাজিমগড় রিসোর্ট (Nazimgarh Resorts) যা লালাখাল এর খুব কাছে খাদিমনগরে অবস্থিত। আগে থেকে যোগাযোগ করে যাওয়া ভাল। নাহলে রিসোর্টে রুম নাও মিলতে পারে। নাজিমগড় রিসোর্টে থাকার জন্য আছে তিন ধরনের ব্যবস্থা। আছে বিশাল টেরেস, ছোট ছোট বাংলো ও বড় ভিলা। একেকটির ভাড়া একেক রকম, তবে আধুনিক সুযোগ-সুবিধায় পাঁচতারা হোটেলের সমান। আছে স্পা ও পুল, যেখানে দূর করতে পারেন শরীরের অবসাদ। সবচেয়ে বড় কথা প্রতিটি স্থাপনাই গাছপালা-জঙ্গলে ছাওয়া টিলার ধারে। ভিলা, টেরেস বা বাংলোর বারান্দায় বসে হাত বাড়ালেই যেন পাওয়া যায় গাছগাছালির ছোঁয়া। সাধারণ হোটেল-কটেজের চেয়ে নাজিমগড়ে থাকার খরচটা একটু বেশিই মনে হবে। এক রাতের জন্য সবচেয়ে কমদামি ‘প্রিমিয়ার’ কক্ষের ভাড়া পড়বে প্রায় ৭ হাজার টাকা, আর প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুইটের ভাড়া প্রায় ১৫ হাজার। এক কক্ষে থাকতে পারবেন সর্বোচ্চ ৩ জন, তবে ৮ বছরের নিচের শিশুর জন্য ভাড়া লাগবে না। এ ভাড়ার মধ্যে পাবেন দুজনের সকালের নাশতা।

      এ ছাড়া সিলেট শহরে রাত যাপন করে একদিনে মাত্র লালাখাল ঘুরতে পারেন। অথবা বিছনাকান্দি ও জাফলং যেকোনো একটার সঙ্গে মিলিয়ে বিকেলের ভ্রমণটা লালাখালে হতে পারে। সিলেট শহর থেকে বেশ দূর হওয়ায় সন্ধ্যার দিকে নদীতে কোনো নৌকা থাকে না। তাই ভ্রমণ বা ঘোরাঘুরি সন্ধ্যার মধ্যেই শেষ করতে হয়। সবচেয়ে ভালো হয় নৌকা ভাড়া নিয়ে যাতায়াত করলে।

      খরচ

      সিলেট শহর থেকে শুধু লালাখালের জন্য মাইক্রোর ভাড়া দুই হাজার থেকে তিন হাজার টাকার মধ্যে হবে, গাড়ি নিলে ভাড়া এক হাজার ৫০০ থেকে দুই হাজার টাকার মধ্যে। সারা দিনের প্ল্যান হলে ভোরে সিলেট থেকে রওনা দিতে হবে। তা ছাড়া বাস কিংবা লেগুনায় ৪০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে সারিঘাট যেতে পারবেন। সেখানে ইঞ্জিনচালিত নৌকা ভাড়া ৮০০ থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা আর স্পিডবোটে যেতে চাইলে ভাড়া এক হাজার ৫০০ থেকে দুই হাজার টাকা হতে পারে। নৌযানে কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০ জনের বসার ব্যবস্থা আছে, ভাড়া একই।


      Tuesday, May 31, 2022

         সৈনিক

      সৈনিক

      রণাঙ্গনে জীবন দেওয়ার সাহস আছে কার?
      দেয় যে সেথা সৈনিক শুধু
      হোক না সে দূর্বার।

      বীর বাহাদূর বলো কাকে? বলো কেন মিছে মিছে?
      হোক না যতই বড় পালোয়ান
      সৈনিকই শুধু জীবন দিছে।

      ভাবলে তুমি,
      এসব কথা যে বলেছে তাহার প্রতি শত ধীক।
      এখন শোনো,
      দেশের জন্য যেই লড়েছে সেইতো সৈনিক।