দামুড়হুদা উপজেলার গোপালপুর গ্রামের দলকা বিলে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের চার জন আহত হয়েছে। আহতরা দামুড়হুদা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ ঘটনায় দামুড়হুদা মডেল থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা করেছেন।
উভয় পক্ষের আহতরা হলেন, গোপালপুর গ্রামের আমির হামজার ছেলে জুড়ানপুর ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম (৫০) আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে রুহুল আমীন, অপর পক্ষে একই গ্রামের জালাল মন্ডলের ছেলে মোজাম্মেল ও নুরুল আলমের ছেলে বখতিয়ার হোসেন। হাসপাতালে ভর্তি আছে এবং প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বেশ কয়েকজন বাড়ি ফিরে গেছে। এবিষয়ে উভয় পক্ষ দামুড়হুদা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছে। এক পক্ষের বাদি উপজেলার গোপালপুর গ্রামের মৃত জালাল মন্ডলের ছেলে মোঃ হকাজ্জেল (৪৫) এবং অপর পক্ষের বাদি একই গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে মো: রুহুল আমীন (৩০)। উভয় পক্ষ প্রায় ১৫ জনের নামে মামলা দায়ের করে।
পুলিশ সুত্রে জানাগেছে, গতকাল রোববার সকালে দামুড়হুদা উপজেলার দলকা লক্ষিপুর বিল নিয়ে দুই পক্ষ মারামারি করেছে। এতে উভয় পক্ষের ৪ জন আহত হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি আছে এবং প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বেশ কয়েকজন বাড়ি ফিরে গেছে। দুই পক্ষই দামুড়হুদা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছে। উভয় পক্ষের মামলা দামুড়হুদা মডেল থানায় প্রক্রিয়াধীন ছিল এবং মারামারির ঘটনায় দামুড়হুদা মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
দলকা লক্ষিপুর বিল মৎস্য সমবায় সমিতর পক্ষে মামলার বাদি উপজেলার গোপালপুর গ্রামের মৃত জালাল মন্ডলের ছেলে মোঃ হকাজ্জেল বলেন, আমরা নৌকার পক্ষে ভোট করায় দলকার বিলের বিষয় নিয়ে আমাদেরকে স্বতন্ত্র ট্রাকের নেতাকর্মীরা হামলা চালাচ্ছে। আবার ওপর পক্ষ দলকা বিলে হেমায়েতপুর প্রগতি মৎসজীবী সমবায় সমিতির পক্ষে পাহারাদার ও মামলার বাদি উপজেলার গোপালপুর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে মো: রুহুল আমীন বলেন, আমরা স্বতন্ত্র ট্রাকের পক্ষে ভোট করায় দলকার বিলের বিষয় নিয়ে নৌকার পক্ষের লোকজন আমাদের উপরে হামলা চালাচ্ছে। তাদেরকে বিলে মাছ ধরতে নিষেধ করলেও তারা জোরপূর্বক বিলে মাছ ধরে এবং আমাকে সহ একজন ইউপি সদস্যকেও মারধর করে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসী জেলা প্রশাসক ও চুয়াডাঙ্গা ০২ আসনের সংসদ সদস্য হাজি মো: আলী আজগার টগর এমপির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
এবিষয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি আলমগীর কবির বলেন, দুই পক্ষের মামলা রেকর্ড হয়েছে। আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা(খুলনা বিভাগ) আয়তন: ১১৭৪.১০ বর্গ কিমি। অবস্থান: ২৩°২২´ থেকে ২৩°৫০´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮°৩৯´ থেকে ৮৯°০০´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ। সীমানা: উত্তরে কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর জেলা, পূর্ব এবং দক্ষিণে ঝিনাইদহ জেলা, পশ্চিমে মেহেরপুর জেলা এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য।
জনসংখ্যা ১১২৯০১৫; পুরুষ ৫৬৪৮১৯, মহিলা ৫৬৪১৯৬। মুসলিম ১১০০৩৩০, হিন্দু ২৬৫১৪, খ্রিস্টান ১৫৯৩, বৌদ্ধ ২২ এবং অন্যান্য ৫৫৬।
জলাশয় প্রধান নদী: মাথাভাঙ্গা, ভৈরব, চিত্রা, নবগঙ্গা, কুমার। ভান্ডারদহ বিল, উজলপুর বিল, মাহেশ্বরী বিল, নেহালপুর বিল, ঝাঝরি বিল, নুরুল্লাপুর বিল এবং বেগমপুর ও চাঁদপুর বাওড় উল্লেখযোগ্য।
প্রশাসন ভারত বিভাগের পূর্বে চুয়াডাঙ্গা মহকুমা নদীয়া জেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের সময় কৃষ্ণগঞ্জ থানা বাদ দিয়ে সমগ্র চুয়াডাঙ্গা মহকুমা পূর্ব বাংলার কুষ্টিয়া জেলার অধীন হয়। ১৯৮৪ সালে চুয়াডাঙ্গা জেলায় উন্নীত হয়।
জেলা
আয়তন (বর্গ কিমি)
উপজেলা
পৌরসভা
ইউনিয়ন
মৌজা
গ্রাম
জনসংখ্যা
ঘনত্ব (প্রতি বর্গ কিমি)
শিক্ষার হার (%)
শহর
গ্রাম
১১৭৪.১০
৪
৪
৩২
৩৪৮
৫২১
৩০৬১৫৭
৮২২৮৫৮
৯৬২
৪৫.৯
জেলার অন্যান্য তথ্য
উপজেলা নাম
আয়তন (বর্গ কিমি)
পৌরসভা
ইউনিয়ন
মৌজা
গ্রাম
জনসংখ্যা
ঘনত্ব (প্রতি বর্গ কিমি)
শিক্ষার হার (%)
আলমডাঙ্গা
৩৬৪.৬৬
১
১৪
১২৩
২০৪
৩৪৫৯২২
৯৪৯
৪৫.৭
চুয়াডাঙ্গা সদর
২৯৮.২৭
১
৭
৮৯
১২৭
৩১৩৯৩৫
১০৫২
৪৭.৬
জীবন নগর
১৯৯.২৪
১
৪
৬২
৮৩
১৭৯৫৮১
৯০১
৪৬.১
দামুড়হুদা
৩১১.৯১
১
৭
৭৪
১০৭
২৮৯৫৭৭
৯২৮
৪৪.২
সূত্র আদমশুমারি রিপোর্ট ২০১১, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।
দর্শনীয়স্থান সমূহ:
প্রাচীন নিদর্শনাদি ও প্রত্নসম্পদ ঘোলদাড়ি জামে মসজিদ (আলমডাঙ্গা), চুয়াডাঙ্গা বড় মসজিদ, তিনগম্বুজবিশিষ্ট ধোপাখালী মসজিদ, ঠাকুরপুর মসজিদ (১৬৯৮), শিবনগর চার পীরের মাজার ও মসজিদ, পারেশ শাহের মাজার, জামজামি মসজিদ, তিয়রবিলা মসজিদ, সোনাতনপুর মন্দির, জগন্নাথপুর মন্দির, ঘোলদাড়ি নীলকুঠি, কার্পাসডাঙ্গা নীলকুঠি।
ঐতিহাসিক ঘটনাবলি ব্রিটিশ শাসনের সূচনা থেকেই এ জেলার অধিবাসীরা বিভিন্ন বিদ্রোহ ও আন্দোলনে শামিল হয়েছে। ওহাবী আন্দোলন (১৮৩১), ফরায়েজী আন্দোলন (১৮৩৮-১৮৪৭), সিপাহী-আন্দোলন (১৮৫৭), নীলবিদ্রোহ (১৮৫৯-১৮৬১), স্বদেশী আন্দোলন (১৯০৬), খেলাফত আন্দোলন (১৯২০), অসহযোগ আন্দোলন, আইন অমান্য ও সত্যাগ্রহ-আন্দোলন (১৯২০-১৯৪০), আগস্ট-বিপ্লব (১৯৪২), কৃষক-আন্দোলন এবং স্বাধীনতা আন্দোলনে চুয়াডাঙ্গার মানুষের উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নেই চুয়াডাঙ্গায় তীব্র প্রতিরোধ গড়ে ওঠে এবং মুক্তিযোদ্ধা ও পাকবাহিনীর সাথে শতাধিক ছোটবড় যুদ্ধ সংঘটিত হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় আলমডাঙ্গা উপজেলার বালিয়াপুর ও বেনাগাড়ি গ্রামের সীমান্তে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে পাকবাহিনীর লড়াইয়ে বেশ কয়েকজন পাকসেনা ও রাজাকার হতাহত হয়। জীবননগর-দর্শনার মাঝামাঝি শিয়ালমারীতে মুক্তিবাহিনীর পেতে রাখা মাইন বিস্ফোরণে ১০ জন পাকসেনা নিহত হয়। এছাড়া ধোপাখালি সীমান্তে পাকবাহিনীর সঙ্গে মুক্তিবাহিনীর লড়াইয়ে ৫ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন এবং ২ জন আহত হন। দামুড়হুদার মদনা গ্রামে পাকবাহিনী অসংখ্য ঘরবাড়ী পুড়িয়ে দেয় এবং বহু নিরীহ লোককে নির্মমভাবে হত্যা করে। মুক্তিযুদ্ধের সময় বর্তমান চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল ছিল পাকবাহিনীর হেড কোয়ার্টার। সদর হাসপাতালের পিছনে বর্তমান শান্তিপাড়ায় পাকবাহিনী প্রায় তিন শতাধিক নিরীহ লোককে নির্মমভাবে হত্যা করে। তাছাড়া পাকবাহিনী চুয়াডাঙ্গা ছেড়ে যাবার সময় বোমা বিস্ফোরণে করে মাথাভাঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত ব্রিজের এক অংশ উড়িয়ে দেয়। চুয়াডাঙ্গা জেলায় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে ১টি বধ্যভূমি (চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের পেছনে), ৩টি গণকবর (নাটুদহ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পেছনে, জীবননগর সীমান্তসংলগ্ন ধোপাখালি গ্রাম, আলমডাঙ্গা রেলস্টেশনের পার্শ্বে জি.কে খালের তীরবর্তী স্থান) এবং ৩টি স্মৃতিস্তম্ভ রয়েছে।
শিক্ষার হার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড় হার ৪৫.৯%; পুরুষ ৪৬.৯%, মহিলা ৪৪.৯%। কলেজ ১২, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১১৭, প্রাথমিক বিদ্যালয় ২৫৯, ভোকেশনাল ট্রেনিং কলেজ ০১, নার্সিং ইনস্টিটিউট ০১। উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ (১৯৬২), দর্শনা সরকারি কলেজ (১৯৬৯), চুয়াডাঙ্গা পৌর কলেজ (১৯৮৩), চুয়াডাঙ্গা আদর্শ মহিলা কলেজ (১৯৮৩), জীবননগর কলেজ (১৯৮৪), ভি. জে. (ভিক্টোরিয়া জুবিলি) সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় (১৮৮০), নাটুদা মাধ্যমিক বিদ্যালয় (১৯০৬), দামুড়হুদা পাইলট হাইস্কুল (১৯১৩), আলমডাঙ্গা বহুমুখী (পাইলট) মাধ্যমিক বিদ্যালয় (১৯১৪), মেমনগর বি.ডি. মাধ্যমিক বিদ্যালয় (১৯১৬), কুড়লগাছি মাধ্যমিক বিদ্যালয় (১৯২৩), হাটবোয়ালিয়া উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় (১৯২৫), কলাবাড়ি-রামনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয় (১৯২৬), মুন্সিগঞ্জ একাডেমি (১৯৩৫), কার্পাসডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয় (১৯৪০), ওসমানপুর প্রাগপুর মাদ্রাসা (১৯৪৯), কুনিয়া-চাঁদপুর মাদ্রাসা (১৯৫৮), বদরগঞ্জ আলিয়া মাদ্রাসা (১৯৬৪)।
জনগোষ্ঠীর আয়ের প্রধান উৎস কৃষি ৬৫.১৪%, অকৃষি শ্রমিক ২.৯৯%, শিল্প ১.৪০%, ব্যবসা ১৪.২৪%, পরিবহন ও যোগাযোগ ৩.৪৬%, চাকরি ৫.৫৭%, নির্মাণ ১.২৮%, ধর্মীয় সেবা ০.১৫%, রেন্ট অ্যান্ড রেমিটেন্স ০.৩৯% এবং অন্যান্য ৫.৩৮%।
পত্র-পত্রিকা ও সাময়িকী দৈনিক: মাথাভাঙ্গা, প্রথম রাজধানী; সাপ্তাহিক: চুয়াডাঙ্গা দর্পণ, চুয়াডাঙ্গা সমাচার, দিনবদলের কাগজ।
লোকসংস্কৃতি মুর্শিদী, মারফতী ও বাউল গানচর্চা ছাড়াও যাত্রা, ভাব গান, ভাসান গান, কবিগান, মানিক পীরের গান, কৃষকের মেঠো গান, গাজীর গীত উল্লেখযোগ্য। [রাজীব আহমেদ]
আরও দেখুন সংশ্লিষ্ট উপজেলা।
তথ্যসূত্র আদমশুমারি রিপোর্ট ২০০১ ও ২০১১, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো; চুয়াডাঙ্গা জেলার সাংস্কৃতিক সমীক্ষা প্রতিবেদন ২০০৭; চুয়াডাঙ্গা জেলার উপজেলা সমূহের সাংস্কৃতিক সমীক্ষা প্রতিবেদন ২০০৭।
শরতের বিদায় ঘনিয়ে আসছে। হেমন্ত উঁকি দিচ্ছে প্রকৃতিতে। শীত আসতে বাকি এখনো দুই মাসের বেশি। আর এ সময়ে শীতের হরেক রকম সবজি চাষে মেতেছেন বগুড়ার কৃষকেরা। মাঠে মাঠে শীতকালীন সবজি চাষের ধুম পড়েছে। অবশ্য কোনো কোনো এলাকার চাষি আগেভাগেই খেতে শীতের সবজি চাষ করেছেন।
এরই মধ্যে মুলা, শিম, বাঁধাকপি, ফুলকপি, গাজরসহ বেশ কিছু শীতের আগাম সবজি বাজারে উঠেছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এসব সবজির দাম বেশি। ভালো দাম পাওয়ায় শীতকালীন সবজি চাষে আগ্রহ বেড়েছে কৃষকদের। আবার আবহাওয়াও কৃষকের অনুকূলে।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উম্মতের জন্য জান্নাতে যাওয়ার অনেক আমলের বর্ণনা দিয়েছেন। এসব আমল বান্দার অপরাধ ও পাপ থেকে মুক্ত থাকার মাধ্যমে জান্নাতে যাওয়া সুনিশ্চিত। এর মধ্যে ৫টি আমল অন্যতম। তাহলো-
১. সাইয়েদুল ইসতেগফার
যে ব্যক্তি দিনে (সকালে) দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে এ ইসতেগফার পড়বে আর সন্ধ্যার আগেই সে মারা যাবে; সে জান্নাতি হবে।
আর যে ব্যক্তি রাতে (প্রথম ভাগে) দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে তা পড়বে আর সে ভোর হওয়ার আগে মারা যাবে; সে জান্নাতি হবে। ’ (বুখারি) أَللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّيْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِيْ وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা আংতা রাব্বি লা ইলাহা ইল্লা আংতা খালাক্বতানি ওয়া আনা আবদুকা ওয়া আনা আলা আহদিকা ওয়া ওয়াদিকা মাসতাতাতু আউজুবিকা মিং শাররি মা সানাতু আবুউলাকা বি-নিমাতিকা আলাইয়্যা ওয়া আবুউ বিজান্মি ফাগফিরলি ফা-ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আংতা। ’
অর্থ : ‘হে আল্লাহ! তুমি আমার প্রতিপালক, তুমি ছাড়া কোনো প্রভু নাই। তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছ। আমি তোমার বান্দা। আমি সাধ্যমত তোমার কাছে দেয়া ওয়াদা ও প্রতিশ্রুতিগুলো পালনে সচেষ্ট আছি। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই। আমাকে যে নেয়ামত দান করেছ, তা স্বীকার করছি এবং আমি আমার পাপগুলো স্বীকার করছি। অতএব তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও। কেননা তুমি ছাড়া কেউ ক্ষমাকারী নেই। ’
২. কালেমা শাহাদাত পড়া
হজরত ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে কোনো মুসলিম ব্যক্তি উত্তমরূপে ওজু করার পর (কালেমা শাহাদাত) বলে- أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ
অর্থ : ‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরিক নেই, তিনি একক এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, (হজরত) মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসুল। ’
তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে দেয়া হবে। সে যে কোনো দরজা দিয়ে ইচ্ছা তাতে প্রবেশ করবে। ’ (ইবনে মাজাহ, তিরমিজি, নাসাঈ, মুসনাদে আহমাদ)
৩. আজানের উত্তর দেয়া
হজরত বেলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু যখন (আজান থেকে) থামলেন তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, যে ব্যক্তি দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে এর (হজরত বেলালের) মতো বলবে, সে বেহেশতে প্রবেশ করবে। ’ (নাসাঈ, মেশকাত)
ওই ব্যক্তির জন্য জান্নাতে প্রবেশ করা মৃত্যু ছাড়া আর কোনো কিছু বাধা থাকবে না। ’ (বুখারি, নাসাঈ, তাবারানি)
৫. ৪০ রাত জামাআতে ইশার নামাজ পড়া
হজরত ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলতেন- ‘যে ব্যক্তি মসজিদে এসে জামাআতের সঙ্গে ৪০ রাত তাকবিরে উলাসহ ইশার নামাজ পড়বে, তার বিনিময়ে আল্লাহ জাহান্নাম থেকে তার মুক্তির সনদ লিখে দেন। ’ (ইবনে মাজাহ)
দর্শনার বড়বলদিয়া স্কুল এ্যান্ড কলেজের সাবেক প্রধান শিক্ষক ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ্য মহাঃ ইউসুপ আলীর বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।বড়বলদিয়া স্কুল এ্যান্ড কলেজের শিক্ষক-কর্মচারী ও ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দের আয়োজনে গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে বড়বলদিয়া স্কুল এ্যান্ড কলেজ মাঠ প্রাঙ্গণে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বড়বলদিয়া স্কুল এ্যান্ড কলেজের সভাপতি হজরত আলীর সভাপতিিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দামুড়হুদা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলী মুনসুর বাবু।
সিনিয়র সহকারী শিক্ষক জিয়াবুদ্দিন এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বড় বলদিয়া স্কুল এন্ড কলেজের সাবেক সভাপতি গোলাম রহমান, সাবেক সহ সভাপতি হাবিবুল্লাহ, দাতা সদস্য বরকত আলীসহ বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত সকল শিক্ষার্থীবৃন্দ, সাবেক শিক্ষার্থীবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ, অভিভাবকবৃন্দ ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন বড় বলদিয়া স্কুল এন্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তক্কেল আলী।
ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন দামুড়হুদা উপজেলার কুড়ুলগাছি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন। গতকাল শুক্রবার সকালে পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসার জন্য চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিনকে সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাঁকে ভর্তি রাখেন। পরিরারের সদস্যরা জানান, সম্প্রতি জ্বরে আক্রান্ত হলে কামাল উদ্দিন ডেঙ্গু পরীক্ষা করান। রিপোর্টে তিনি ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন জানতে পারলে চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গতকাল শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তার অবস্থা উন্নতির দিকে ছিল। এদিকে, ইউপি চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিনের রোগমুক্তি কামনা করেছেন ইউনিয়নবাসীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
কাল সন্ধ্যায় আবারও আপনাকে TV-র পর্দায় দেখলাম প্রাইমটাইম-এ আপনার কমেন্ট্স দিচ্ছেন মঙ্গলকোটের 'অমঙ্গল' কান্ড নিয়ে। আপনি আপনার চিরাচরিত বিচক্ষন শব্দচয়নের মাধ্যমে জানালেন আপনার তীব্র নিন্দা, উক্ত ঘটনার প্রতি। কংগ্রেসি বিধায়ক এবং দলনেতাদের প্রতি আপনার ব্যক্ত উদ্বেগ খুবই সমিচিন এবং সদর্থক। এখানেই না থেমে আপনি কড়া ধমক দিয়েছেন আপনার নিজের পার্টীকর্মিদের এবং অতি দ্রূতভাবে তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার ব্যবস্থাও করেছেন। মার্ক্সবাদী কম্যুনিস্ট পার্টীর রাজ্য সম্পাদকের পদে আপনার এই ক বছরে উপরুক্ত নিন্দা প্রকাশের কাজে আপনি অতুলনিয় পারদর্শিতা দেখিয়েছেন। বিভিন্ন জায়গায় ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার পরে আপনার পরিস্থিতির প্রতি কড়া নজর রাখার আশ্বাসও বাংলার মানুষের কাছে অপরিচিত নয়। তবে যেটা অভূতপূর্ব এবং অপরিচিত সেটা হল দ্রুত এবং দৃঢ পদক্ষেপ নেওয়া। বিগত কয়েক বছরে হিংসাচারের ঘটনা বিরল নয় এটা অনস্বীকার্য তবে এ হেন ক্ষেত্রে, অর্থাৎ যার পরে আপনি এত শীঘ্র এত দৃঢ় পদক্ষেপ নিলেন, তাতে এই ঘটনা নিশ্চয় বিরল!
মানসবাবু তথা বাকি "আক্রান্ত" কংগ্রেসি দলের নেতারা নিশ্চয়ই খুব ভাগ্যবান যে তাঁরা এক বিরল পুরষ্কারের পাত্র হলেন এই মঙ্গলকোটের ঘটনায়। পুরষ্কারটি হল আপনার দ্রুত এবং দৃঢ় পদক্ষেপ যা কয়েকশ হতভাগা মার্ক্সবাদি কর্মিদের নাগালের বাইরে। যদিও বা তাঁরা সিঙ্গুর নন্দিগ্রাম লালগড় তথা বাকি জায়গায় আপনার এবং বাকি নেতৃবৃন্দের দেওয়া ডাককেই রুপায়িত করতে গিয়েই প্রান হারাচ্ছেন, তাও তাঁরা এত সৌভাগ্যের অধিকারি নয়। দলিয় মুখপাত্রের এক লাইন হওয়ার সৌভাগ্য তাদের হলেও তাঁরা বা তাদের আত্মিয় পরিজনেরা আপনার দ্রুত এবং দৃঢ় পদক্ষেপের প্রার্থি নয়। বোধ হয় পার্টী নেতৃত্ত্বে আর বিশ্বাস না থাকায় মাঠেঘাটের পার্টীকর্মিরা নিজেরাই পদক্ষেপ নিচ্ছেন। তবে আপানার কড়া বক্তব্যে এটা পরিষ্কার যে পার্টী এবং তার কর্মিদের আপনি অকাতরভাবে আরও সংশোধনের দিকে নিয়ে জেতে ইচ্ছুক। মনে পড়ে ছেলেবেলায় মামার বাড়িতে রক্ষেকালি পুজোর সময়ে বলি হওয়ার আগে মন্দিরের অনতিদুরে বাঁধা পাঁঠকে দেখে কাঁদছিলাম বলে আমার এক মামা আমায় বলেছিলেন "ওরে বোকা ও তো এক বড় কাজের জন্য মরছে আর তাতে তুই কাঁদছিস্? ছিঃ ছিঃ কি বোকা রে তুই!" বুঝতে পারছি আজও সেই বোকাটা রয়ে গেলুম।